ADVERTISEMENT
Health

শীতে কিডনির সুস্থতা ধরে রাখবেন যেভাবে, চিকিৎসকের ৯ পরামর্শ

শীতে কিডনির সুস্থতা ধরে রাখবেন যেভাবে, চিকিৎসকের ৯ পরামর্শ

শীতকালে ঠান্ডার কারণে সরাসরি কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয় না। তবে এ সময় পানি কম পান করা, রক্তচাপের পরিবর্তন এবং বিভিন্ন সংক্রমণের কারণে কিডনির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তাই শীতেও কিডনির সুস্থতা বজায় রাখতে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীতকালে পানিশূন্যতা, রক্তচাপের ওঠানামা ও মূত্রনালির সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও আগে থেকে কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এ সময় বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এ বিষয়ে হিন্দুস্তান টাইমস লাইফস্টাইলকে পরামর্শ দিয়েছেন কিডনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উদয় দীপকরাও গজারে।

তাই শীতেও কিডনির সুস্থতা বজায় রাখতে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীতকালে পানিশূন্যতা, রক্তচাপের ওঠানামা ও মূত্রনালির সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও আগে থেকে কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এ সময় বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এ বিষয়ে হিন্দুস্তান টাইমস লাইফস্টাইলকে পরামর্শ দিয়েছেন কিডনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উদয় দীপকরাও গজারে। তাঁর মতে, শীতকালে কিডনি সুস্থ রাখতে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। ১. তৃষ্ণা না পেলেও পানি পান করুন শীতকালে অনেকের তৃষ্ণা কম লাগে। ফলে পানি পান করার পরিমাণও কমে যায়। এতে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে, যা কিডনির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দিনের বিভিন্ন সময়ে নিয়মিত পানি পান করা প্রয়োজন। তবে যাদের কিডনির রোগ গুরুতর বা ডায়ালাইসিস নিতে হয়, তাদের চিকিৎসকের নির্ধারিত তরল গ্রহণের সীমা মেনে চলতে হবে। ২. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন ঠান্ডায় রক্তনালি সংকুচিত হতে পারে। এতে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাঁদের নিয়মিত রক্তচাপ মাপা, চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ সঠিকভাবে খাওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। দীর্ঘদিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কিডনির কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ৩. মূত্রনালির সংক্রমণের লক্ষণ অবহেলা করবেন না প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, জ্বর ও পিঠে ব্যথা মূত্রনালির সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। এসব সমস্যা দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা না করালে সংক্রমণ কিডনিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ৪. খাবারে লবণের পরিমাণ কমান প্যাকেটজাত স্যুপ, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, আচার ও বিভিন্ন মুখরোচক খাবারে লবণের পরিমাণ বেশি থাকে। অতিরিক্ত লবণ রক্তচাপ বাড়াতে পারে এবং শরীরে পানি জমার প্রবণতা তৈরি করতে পারে। তাই ঘরে তৈরি তাজা খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। প্যাকেটজাত খাবার কেনার আগে পুষ্টি উপাদানের তালিকায় সোডিয়ামের পরিমাণ দেখে নিন। ৫. শরীরচর্চা চালিয়ে যান শীতের কারণে অনেকেই হাঁটাচলা ও ব্যায়াম কমিয়ে দেন। অথচ নিয়মিত শরীরচর্চা রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এসব বিষয় কিডনির সুস্থতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে যাওয়া সম্ভব না হলে ঘরের ভেতর হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়াম করতে পারেন। ৬. ব্যথানাশক ও ঠান্ডার ওষুধ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন আইবুপ্রোফেন ও ন্যাপ্রোক্সেনের মতো কিছু ব্যথানাশক ওষুধ কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে শরীরে পানিশূন্যতা থাকলে এসব ওষুধ কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। ৭. প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে গুরুত্ব দিন হঠাৎ প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে এর সঙ্গে শরীর ফুলে যাওয়া, বমি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। ৮. দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হবে। জ্বর, বমি বা ডায়রিয়া হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আগে থেকে নির্ধারিত ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করা উচিত নয়। ৯. নিয়মিত কিডনির কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করুন কিডনির রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তাই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ কিংবা পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত কিডনির কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করা জরুরি। এতে শুরুতেই সমস্যা শনাক্ত করা সম্ভব। চিকিৎসক উদয় দীপকরাও গজারে ভারতের এআইএনইউ বিশাখাপত্তনমের একজন কিডনি বিশেষজ্ঞ ও কিডনি প্রতিস্থাপন চিকিৎসক।
ADVERTISEMENT In-Article Advertisement